তিনি আরো উল্লেখ করেন, হামলা প্রতিহত করতে জর্দানে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনী ৩০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। মূলত কয়েক দিন আগে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পাঁচটি তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবেই এই বিধ্বংসী আক্রমণ চালাল তেহরান।
হামলার দায় স্বীকার করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মার্কিন বিমানঘাঁটি ছাড়াও আটটি তেল ট্যাংকার এবং দুটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একযোগে এ হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানের এই মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি ট্যাংকার ডুবিয়ে দিলে ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক উত্তেজনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ইরনার বরাতে জানা যায়, আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে একে তাদের একটি ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জর্ডানের ‘আল-আজরাক’ নামের এই মার্কিন ঘাঁটিতে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় তেহরান। এ ছাড়া কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে কয়েক মাস ধরে চলমান অবরোধ আরো জোরদার করে ১২টিরও বেশি জাহাজে হামলা চালানোর দাবিও করেছে দেশটি।
তবে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি জর্দান সেনাবাহিনী নিশ্চিত করলেও ক্ষতির পরিমাণ কম বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে জর্দান সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংকেত পাওয়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিকেই আকাশে সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাকি মাত্র ২টি ক্ষেপণাস্ত্র জনমানবহীন ফাকা প্রান্তরে আঘাত হেনেছে।
এআই গবেষণায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ কোটি টাকা অনুদান দিলেন ভারতীয় দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়কে (ইউএনটি) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত বিশ্লেষণবিদ্যার নতুন একটি কলেজ স্থাপনের জন্য ২ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ২০০ কোটি টাকা) দান করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী দম্পতি অনুরাধা ও বিকাশ সিনহা। তাদের এই বড় অনুদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন এই কলেজটির নাম রেখেছে ‘অনুরাধা ও বিকাশ সিনহা কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স’।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অনুদানের মাধ্যমে ছয়টি স্থায়ী তহবিল প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, স্থায়ী অধ্যাপক পদ, নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত গবেষণায় সহায়তা করবে। কলেজটি দুটি প্রধান বিভাগের অধীনে পরিচালিত হবে—একটি বিভাগ কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সের মতো প্রযুক্তি তৈরি নিয়ে, আর অন্যটি শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে কাজ করবে।
ইউএনটির প্রেসিডেন্ট হ্যারিসন কেলার জানান, এই উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লুক নর্থ: ইউএনটি ২০৩০’ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন এবং পরিবর্তনশীল কাজের বাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। অনুদান প্রসঙ্গে ব্রডকমের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিকাশ সিনহা বলেন, ‘শিক্ষা আমাদের জীবনে সাফল্যের পথ খুলে দিয়েছে। আমরা চাই অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেন একই সুযোগ পায়। অভিবাসীরা শুধু আমেরিকান স্বপ্ন বাস্তবায়নই করে না, তা গড়ে তুলতেও সাহায্য করে।’
উল্লেখ্য, ভারত থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান অনুরাধা ও বিকাশ সিনহা। পরবর্তীতে তারা ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন এবং বিকাশ সিনহা ২০২৩ সালে ইউএনটি থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এর আগেও এই দম্পতি ডেটা সায়েন্স বিভাগ ও ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছিলেন।
ইরানের সন্দেহজনক ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনায় বেড়েছে নির্মাণকাজ

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে থাকা সন্দেহজনক একটি ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনায় চলতি বছর নির্মাণকাজ হঠাৎ বেড়েছে। ছয় বছরের উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছেন একদল গবেষক। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলার সময়েই এই নির্মাণকাজ দ্রুত হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, গ্রানাইট পাথরের গভীরে তৈরি এই স্থাপনাটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নাতাঞ্জ পরমাণু কমপ্লেক্সের কাছে অবস্থিত। রাজধানী তেহরান থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৪০ মাইল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটির ওপর নজর রাখছে। তাদের ধারণা, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ইরানের নতুন ও অঘোষিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র হতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষকেরা ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া উপগ্রহচিত্র পর্যালোচনা করেছেন। সর্বশেষ ছবিটি গত ৯ আগস্টের। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, ২০২৬ সালে স্থাপনাটিতে নির্মাণকাজ আগের কয়েক বছরের তুলনায় স্পষ্টভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্থাপনার প্রবেশপথ, ভেতরের সড়ক এবং বাইরের নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির কাজ বেশি হয়েছে।
সিএসআইএসের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, গত ছয় বছরের ছবিতে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের নির্মাণকাজে তিনটি আলাদা ধাপ দেখা যায়। স্থাপনাটির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এসব অংশের সঙ্গে যুক্ত সড়কগুলোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। গবেষকদের মতে, শুরুতে সেখানে মূলত পাহাড়ের ভেতর খননকাজ হয়েছে। এরপর কাজ ধীরে ধীরে স্থাপনার ভেতরের নির্মাণের দিকে এগিয়েছে। একই সঙ্গে স্থাপনার বাইরের অংশ আরো শক্তিশালী করার কাজও চলছে। ২০২৬ সালের ছবিতে সড়ক নির্মাণ ও যানবাহন চলাচলের পরিমাণও আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি দেখা গেছে। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, চলতি বছরে স্থাপনার প্রবেশপথ তৈরি ও শক্তিশালী করা হয়েছে। ভেতরের কিছু সড়ক পাকা করা হয়েছে। প্রবেশপথের আশপাশের অংশ আরো মজবুত করা হয়েছে। এ ছাড়া খননকাজের পর জমে থাকা মাটি ও পাথর সরিয়ে কিছু জায়গা সমতল করা হয়েছে।
এসব পরিবর্তন থেকে গবেষকদের ধারণা, স্থাপনাটি এখন শুধু পাহাড়ের ভেতর খননের পর্যায়ে নেই। বরং সেখানে ভেতরের অবকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। তবে গত শরতে ইরান সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও এর বিভিন্ন অংশ নিয়ে গেছে- ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের এমন দাবির বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি গবেষকেরা। তারা বলেছেন, উপগ্রহচিত্রের তথ্য দিয়ে ওই দাবি খণ্ডন করা সম্ভব হয়নি। আবার দাবিটি সত্য- এমন প্রমাণও তারা পাননি। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণকাজ বাড়ার কারণ কী, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে গবেষকদের একটি ধারণা হলো, ইরান সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত যন্ত্র তৈরির একটি কেন্দ্র বানাতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের উপগ্রহচিত্র দেখে সেখানে কী হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো যথেষ্ট তথ্য নেই।
তিনি স্থাপনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার কর্মকর্তাদের সেখানে গিয়ে পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত তাদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। ২০২০ সালে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তৎকালীন প্রধান আলী আকবর সালেহি নাতাঞ্জের কাছে মাটির নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত যন্ত্র তৈরির একটি কেন্দ্র নির্মাণের কথা জানিয়েছিলেন। সিএসআইএসের বিশ্লেষকেরা বলছেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজও শুরু বা বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন। তাদের ধারণা, এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ওই ইউরেনিয়ামকে আরো বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ করার চেষ্টা হতে পারে।
তবে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম থাকা এবং সেখানে অস্ত্র তৈরির কাজ হচ্ছে- এ দুটি বিষয় এক নয়। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামকে আরো বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ করতে হয়। বিশ্লেষকেরা আরো মনে করছেন, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিতে পারে। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম ধাতু প্রক্রিয়াজাত করা এবং রাসায়নিকভাবে রূপান্তরের মতো কাজ থাকতে পারে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত হামলায় ইসফাহানের কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল। গবেষকদের মতে, এসব স্থাপনায় আগে যে ধরনের কাজ হতো, তার কিছু অংশ ভবিষ্যতে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
ভূগর্ভে থাকার কারণে এই স্থাপনা বাইরে থেকে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা তুলনামূলকভাবে কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণকাজ বাড়ার তথ্য এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থাপনাটিতে হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা চালাতে পারে। তিনি আরো বলেন, স্থাপনাটিতে কারা যাতায়াত করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি রয়েছে। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে ফারসি ভাষায় কুহ-এ কোলাং গাজ লা বলা হয়। এটি নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। পাহাড়ের শক্ত গ্রানাইটের গভীরে এই স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এর কারণে এটি অনেকটা ভূগর্ভস্থ দুর্গের মতো। সিএসআইএসের বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করেও স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন হতে পারে।
এর মধ্যে জিবিইউ-৫৭ নামের বিশাল বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমাও রয়েছে। এই ধরনের বোমা মাটির অনেক গভীরে থাকা স্থাপনায় আঘাত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সম্পর্কে তেহরানের কাছে তথ্য চেয়েছে। সংস্থাটি স্থাপনাটি সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগও চেয়েছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত আইএইএর কর্মকর্তাদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ঠিক কী ধরনের কাজ চলছে, সেখানে পরমাণু কর্মসূচির কোন অংশ রয়েছে এবং স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার কী হবে- এসব প্রশ্নের পুরোপুরি নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। উপগ্রহচিত্রে নির্মাণকাজ বাড়ার বিষয়টি অবশ্য দেখাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ এই স্থাপনাটি নিয়ে ইরানের কার্যক্রম চলতি বছর আগের তুলনায় আরো বেশি সক্রিয় হয়েছে।
এআই প্রযুক্তির সুরক্ষায় ফিনল্যান্ডের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কিনছে গুগল

ফিনল্যান্ডের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৩ বিলিয়ন ইউরো (১৫ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে গুগল। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম্পানিটি জানিয়েছে যে ইউরোপে এটিই গুগলের সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগ। এই বিশাল প্রকল্পের অধীনে তিনটি নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং একটি পুরনো সাইট সম্প্রসারণ করা হবে। এআই পরিষেবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ফিনল্যান্ডের লোভিসা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রুথ পোরাট জানান, এই বিনিয়োগ দায়িত্বশীলভাবে প্রযুক্তির অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফিনল্যান্ডের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ‘ফরটাম’-এর সাথে ২২ বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে গুগল। এর ফলে লোভিসা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে গুগল, যা তাদের জেমিনি এআই চ্যাটবটসহ সার্চ, ম্যাপস ও ইউটিউব পরিষেবার সক্ষমতা বাড়াবে।
কম্পানিটির তথ্য মতে, এই নির্মাণের মাধ্যমে অন্তত ৩৭০০০ কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং ফিনল্যান্ডের জিডিপি বছরে ৩.৬ বিলিয়ন ইউরো বৃদ্ধি পাবে। নতুন ডেটা সেন্টারগুলো কাজানি, মুহোস ও ভালায় নির্মিত হবে এবং ২০০৯ সালে চালু হওয়া হামিনার ডেটা সেন্টারটি সম্প্রসারিত করা হবে। ২০২৭ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র প্রস্তুত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি ওরপো এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গুগলের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। শীতল আবহাওয়া ও স্বল্প-কার্বন বিদ্যুতের সহজলভ্যতার কারণে সম্প্রতি এআই ডেটা সেন্টারের জন্য বিশ্বজুড়ে আদর্শ স্থান হয়ে উঠেছে ফিনল্যান্ড। সম্প্রতি টিকটকও দেশটিতে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্ধকারে আপনি একা নন : দীর্ঘ বিদ্যুৎবিভ্রাটে গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের শান্তির আহ্বান

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গাম্বিয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজধানী বানজুল ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আদামা ব্যারো।
তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটে গাম্বিয়া একা নয়। পশ্চিম আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশ একই সমস্যার মুখে পড়েছে। সোমবার রাতে রাজধানী বানজুল ও আশপাশের এলাকায় মানুষ বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে বলে জানায় বিবিসি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কখনো কখনো টানা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে গরমের মধ্যে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। পরদিন মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ব্যারো মানুষের এই ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষকে গরম ও অন্ধকারের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। ব্যারো বলেন, ‘গরম আর অন্ধকারের মধ্যে যখন আপনি শুয়ে থাকবেন, তখন মনে রাখবেন, এই অন্ধকারে আপনি একা নন।’ তিনি আগামী মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সোমবার রাতে মানুষের ক্ষোভ চরমে ওঠে। বানজুল ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা সড়কে টায়ারে আগুন দেন এবং রাস্তা অবরোধ করেন। পশ্চিমফিল্ড এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা নাওয়েকের প্রধান কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট ব্যারোর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। তারা ‘ব্যারোকে চলে যেতে হবে’ বলে স্লোগান দেন। ফারাতো এলাকাতেও বিক্ষোভ হয়। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে মানুষ জড়ো হন। এ সময় প্রেসিডেন্ট ব্যারোর ক্ষমতাসীন জাতীয় জনতা দলের একটি কার্যালয়ে থাকা ব্যানার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।
গাম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কয়েক মাস আগে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ব্যারো তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকারের ওপর মানুষের চাপ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ভাষণে ব্যারো বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে সরকারি অবকাঠামো ভাঙচুর না করার জন্য বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এসব স্থাপনা মেরামতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
ব্যারো বলেন, ‘আসুন, রাগের মুহূর্তে আমরা এমন কিছু ধ্বংস না করি, যা অর্জন করতে আমাদের এত দীর্ঘ সময় কষ্ট করতে হয়েছে।’ প্রেসিডেন্ট আরো স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারের পরিকল্পনায় কিছু ঘাটতি ছিল। এসব সমস্যার কারণে তিনি বিদ্যুৎ সংকটকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়’ এবং ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে ব্যারো বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের পাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শিশুরা অন্ধকারে পড়াশোনা করছে। মায়েরা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দিনে ও রাতে অতিরিক্ত গরমে মানুষের কষ্ট বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, পাখা ঘোরা বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুরা অন্ধকারে পড়াশোনা করছে। মায়েরা নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার ফেলে দিচ্ছেন। দিনে ও রাতে গরম অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’
ব্যারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তিনি বলেন, ব্রিকামা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বসানো হচ্ছে। আগামী মাসের শেষ নাগাদ এটি চালু হওয়ার কথা। এ ছাড়া সোমায় ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি হয়েছে। তবে কেন্দ্রটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে সরকার নির্দিষ্ট সময় জানায়নি। ব্যারোর ভাষ্য, গাম্বিয়ার মতো ছোট বিদ্যুৎব্যবস্থার জন্য এই পরিমাণ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু হলে মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা করছেন। মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা নাওয়েকের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই গাম্বিয়ায় নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী যন্ত্র পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
গাম্বিয়া নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করে। গিনি ও সেনেগাল থেকে বিদ্যুৎ নেয় দেশটি। নাওয়েকের প্রধান গ্যালো সাইদিও বলেছেন, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বর্তমান সংকট আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাওয়া বিদ্যুতের পরিমাণও কমে গেছে। গ্যালো সাইদিও বলেন, ‘গাম্বিয়ার মানুষ কতটা হতাশ ও সমস্যার মধ্যে আছেন, তা আমরা জানি। আমরা শুধু গাম্বিয়ার মানুষের কাছে একটু সময় ও ধৈর্য চাচ্ছি।’
গাম্বিয়ায় জুন মাস থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। চলতি গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বেড়েছে। মানুষ গরম থেকে বাঁচতে বেশি সময় পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করছেন। ফলে বিদ্যুতের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। আগস্টে নাওয়েক জানিয়েছিল, অস্বাভাবিক বেশি তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। একই সময়ে কারিগরি সমস্যার কারণে আমদানি করা বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরো কমে যায়।

