বন্ধের পথে ভারতের একাধিক উড়োজাহাজ সংস্থা

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ভারতের উড়োজাহাজ খাতে বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে

দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এটিএফের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ দাম লিটারপ্রতি ৭৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক উড়োজাহাজ সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে তারা ‘কার্যক্রম বন্ধ’ করে দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। টাটা মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়াসহ অন্তত ৩টি এয়ারলাইনস সরকারকে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল)দেশটির বেসামরিক উড়োজাহাজ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এক চিঠিতে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের প্রতিনিধিত্বকারী ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস (এফআইএ) বলেছে, জ্বালানির অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বা নিয়মবহির্ভূত দাম নির্ধারণ উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। এর ফলে উড়োজাহাজগুলো বসিয়ে রাখতে হবে এবং অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করতে হবে। টিকে থাকতে এবং কার্যক্রম সচল রাখতে আমরা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা কামনা করছি।

ফেডারেশন জানিয়েছে, দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তারা মন্ত্রণালয়কে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে অভিন্ন একটি জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি করেছে, যেটা অতীতে ‘ক্র্যাক ব্যান্ড’ পদ্ধতির মাধ্যমে করা হয়েছিল। এছাড়া এটিএফের ওপর ধার্যকৃত ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হবে।

ক্র্যাক ব্যান্ড হলো এটিএফ মূল্যের এমন একটি প্রক্রিয়া, যা অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত এটিএফের মূল্যের মধ্যে চরম পার্থক্য রোধ করে।

ফেডারেশনটি আরো জানিয়েছে, সংকটপূর্ব সময়ের তুলনায় এটিএফের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং তার সঙ্গে রুপির অবমূল্যায়ন যুক্ত হওয়ায় ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর জন্য বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা জ্বালানির মূল্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

দেশীয় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর এ উদ্বেগের প্রত্যক্ষ কারণ হলো, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং ইরানের হরমুজ প্রণালী  অবরোধ।

ইরানের উত্তর সীমান্তঘেঁষা এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়। প্রণালিতে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলো সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাস বহন করে। এ তেলের সিংহভাগই যায় এশিয়ায়। তাই এ প্রণালিতে যাতায়াত ব্যাহত হওয়া মানেই বিশ্ব তেল বাণিজ্যে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *