শিশু বিকাশ বলতে জন্ম থেকে বয়ঃসন্ধি শেষ হওয়া পর্যন্ত মানুষের মধ্যে ঘটে যাওয়া জীবতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং আবেগজনিত পরিবর্তনসমূহকে বোঝায়। এটি—বিশেষ করে জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত—একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই সমাজের ভিত্তি।[১]
শৈশবকে জীবনের তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্রারম্ভিক শৈশব, মধ্য শৈশব এবং উত্তর শৈশব বা প্রাক-কৈশোর।[২] প্রারম্ভিক শৈশব সাধারণত শৈশবকাল থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়ের মধ্যে বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই সময়েই অর্জিত হয়; যেমন: প্রথম কথা বলা, হামাগুড়ি দিতে শেখা এবং হাঁটতে শেখা। মধ্য শৈশব/প্রাক-কৈশোর বা ৫-১০ বছর বয়স সার্বজনীনভাবে প্রধান উন্নয়নমূলক রূপান্তর বিন্দুগুলোর মধ্যবর্তী একটি স্বতন্ত্র সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত।[২] বয়ঃসন্ধি প্রায়শই যৌন পরিপক্কতার সূচনার সাথে শুরু হয় (১০ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে),[৩] এবং পূর্ণবয়স্ক হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়। বয়ঃসন্ধিকাল শরীরের পরিপক্কতা, শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত আত্মপরিচয় প্রকাশের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।[৪] উন্নয়নমূলক পরিবর্তন জেনেটিক্যালি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ার ফলে ঘটতে পারে যা পরিপক্কতা নামে পরিচিত,[৫] অথবা পরিবেশগত কারণ এবং শিক্ষার মাধ্যমেও হতে পারে। তবে সাধারণত এটি উভয় উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। এছাড়া মানুষের সহজাত প্রকৃতি এবং পরিবেশ থেকে শেখার ক্ষমতার ফলেও বিকাশ ঘটতে পারে।শিশুদের সর্বোত্তম বিকাশ সমাজের জন্য অত্যাবশ্যক বলে বিবেচিত হয়। শিশুদের সামাজিক, জ্ঞানীয়, আবেগীয় এবং শিক্ষামূলক বিকাশ বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান গবেষণা ও আগ্রহের ফলে নতুন নতুন তত্ত্ব ও কৌশল তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে স্কুল ব্যবস্থার মধ্যে বিকাশকে উৎসাহিত করার পদ্ধতিগুলোর ক্ষেত্রে। কিছু তত্ত্ব শিশু বিকাশের স্তরগুলোর একটি ধারাবাহিকতা বর্ণনা করার চেষ্টা করে।